প্রাথমিক শিক্ষকদের পদোন্নতিতে নতুন অপেক্ষা

adminadmin
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৫:৫৭ AM, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এডুকেশনটুডে রিপোর্ট

১৩ বছরের আইনি জটিলতা নিরসন হলেও রায়ের অনুলিপি হাতে না আসায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি কার্যক্রম থমকে রয়েছে। কপির অভাবে দেশের ৩৬ হাজার ২৩৫টি শূন্য পদে পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন জারি করা সম্ভব হচ্ছে না।

গত ২ জুন সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগ সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতিসংক্রান্ত আইনি বিরোধের অবসান ঘটান। এর ফলে হাজার হাজার সহকারী শিক্ষকের প্রধান শিক্ষক পদে উন্নীত হওয়ার পথ তৈরি হয়। তবে রায় প্রকাশ পেলেও এর প্রত্যয়িত অনুলিপি বা সারসংক্ষেপ এখনো প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) টেবিলে এসে পৌঁছায়নি। আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে রায়ের কপি ছাড়া পরবর্তী কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া যাচ্ছে না।

দীর্ঘ প্রতীক্ষায় নতুন প্রশাসনিক স্থবিরতা

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী জানান, পুরো প্রক্রিয়াটি আদালতের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালনা করতে হবে। রায়ের কপির জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করা হলেও ঘোষণার তিন মাস পরও তা হাতে না পাওয়ায় আইনি দিকগুলো খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কপি পাওয়া মাত্রই কার্যক্রম দ্রুতগতিতে শুরু করা হবে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।

বর্তমানে দেশের ৬৫ হাজার ৬২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৬ হাজার ২৩৫টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। স্থায়ী প্রধান শিক্ষক না থাকায় জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকেরা ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও উপযুক্ত পদমর্যাদা ও আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আদালতের রায়ের পর আশার সঞ্চার হলেও কপির অপেক্ষায় সেই স্বস্তি ফের উদ্বেগে রূপ নিয়েছে।

তালিকাপ্রণয়ন ও মাঠপর্যায়ের চ্যালেঞ্জ

দীর্ঘ প্রায় এক যুগ পদোন্নতি বন্ধ থাকায় মাঠপর্যায়ে জ্যেষ্ঠতার তালিকা বা গ্রেডেশন তৈরিতে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে অনেক শিক্ষকের চাকরির তথ্যে পরিবর্তন আসায় তা যাচাই, যোগ্যতা নির্ধারণ এবং জ্যেষ্ঠতার সঠিক ক্রম সাজানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো শিক্ষক যাতে বঞ্চিত না হন, সে জন্য নির্ভুল তালিকা প্রণয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তবে তালিকা চূড়ান্ত হলেও মূল রায় ছাড়া প্রজ্ঞাপন জারি করা অসম্ভব।

শিক্ষকদের হতাশা ও নতুন পদের সমীকরণ

দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে আন্দোলন ও আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া শিক্ষকেরা নতুন করে কোনো দীর্ঘসূত্রতা চান না। রায় পাওয়ার পরও তিন মাস ধরে কপির জন্য অপেক্ষাকে হতাশাজনক উল্লেখ করে তারা দ্রুত রায় সংগ্রহ ও প্রজ্ঞাপন জারির জোর দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে পদোন্নতি কার্যকর হলে প্রাথমিক শিক্ষা খাতে নতুন সমীকরণ তৈরি হবে। ৩৬ হাজার ২৩৫ জন সহকারী শিক্ষক প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি পেলে তাদের শূন্য হওয়া পদসহ মোট ৩৮ হাজার সহকারী শিক্ষকের পদ খালি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে পদোন্নতির পরপরই বিশাল পরিসরে নতুন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চ্যালেঞ্জ ডিপিইর সামনে উপস্থিত হবে। সব জটিলতা কাটিয়ে ওঠার মূল চাবিকাঠি এখন কেবল আদালতের মূল রায়ের কপি হাতে পাওয়া।

আপনার মতামত লিখুন :