কঠোর নিরাপত্তায় শুরু এসএসসি পরীক্ষা
এডুকেশনটুডে রিপোর্ট
দেশের ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে একযোগে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা। এতে সারা দেশের ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। দুপুর ১টায় প্রথম দিনের পরীক্ষা শেষ হবে।
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও তল্লাশি
এদিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকেই কেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ পায় শিক্ষার্থীরা। অধিকাংশ কেন্দ্রের প্রবেশপথে পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি ডিজিটাল ডিভাইস বা অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো কাগজ আছে কি না, তা কড়াভাবে তল্লাশি করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ডিজিটাল জালিয়াতি ঠেকাতে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের বিশেষ নির্দেশনায় এবার বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
আবহাওয়া ও যানজট
রাজধানীর কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, সকাল সাড়ে ৭টা থেকেই অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে ভিড় করতে শুরু করেন। গত কয়েক দিনের তুলনায় আজ ঢাকার আবহাওয়া কিছুটা শীতল হওয়ায় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে। তবে কিছু এলাকায় যানজটের কারণে কেন্দ্রে পৌঁছাতে বেগ পেতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা।
বোর্ডভিত্তিক প্রথম দিনের চিত্র
প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে প্রথম দিনে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে দাখিলে ‘কুরআন মাজিদ ও তাজভিদ’ এবং কারিগরি বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনালে) ‘বাংলা-২’ বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।
পরিসংখ্যান একনজরে
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির তথ্যমতে, এবার সাধারণ ৯টি বোর্ডে ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, মাদ্রাসা বোর্ডে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি বোর্ডে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে নিয়মিত ১৪ লাখ ৪৮ হাজার ৫১১ জন এবং অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৪ লাখের বেশি। এদের মধ্যে ২ লাখ ৬১ হাজার শিক্ষার্থী কেবল এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়ে পুনরায় পরীক্ষায় বসছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক কামাল উদ্দিন হায়দার বলেন, “সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজনে আমরা বদ্ধপরিকর। সারা দেশে ভিজিল্যান্স টিম সক্রিয় রয়েছে। শিক্ষক বা পরীক্ষার্থী—কাউকেই নীতিমালার বাইরে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা মাঠপর্যায়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছি।”