যেভাবে হবে আগামী বছর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা

adminadmin
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৫:৩৮ AM, ০৪ এপ্রিল ২০২৩

এডুকেশনটুডে রিপোর্ট: ২০২৪ সালে দেশের সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে একক ভর্তি পরীক্ষা। এই একক ভর্তি পরীক্ষায় শুধুমাত্র তিন বিষয়ে (বিজ্ঞান, ব্যবসায় প্রশাসন ও মানবিক) অনুষ্ঠিত হবে। একটি পরীক্ষা দিয়েই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেন শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়াও এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার পর উচ্চ শিক্ষায় যেতে সময়ক্ষেপণ হবে না। এরই ধারবাহিকতায় ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের জন্য গঠন করা হবে ন্যাশনাল টেস্টিং অথরিটি (এনটিএ)।

গতকাল বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সভাপতিত্বে একটি সভা অনুুষ্ঠিত হয়। এতে ভবিষ্যৎ ভর্তি পরীক্ষার ধরন কীভাবে হবে তা নিয়ে আলোচনা হয়। সভা শেষে শিক্ষামন্ত্রী একক ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনে এখন থেকেই সংশ্লিষ্টদের প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, একক ভর্তি পরীক্ষা বিষয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে শিগগিরই একটি কমিটি গঠন করা হবে। এইচএসসি পরীক্ষার পরে একক ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠানের সূচি প্রকাশ করা হবে এবং উচ্চ শিক্ষার সব ক্ষেত্রে একই সময়ে ক্লাস শুরু হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারা দেশে একযোগে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব পরীক্ষার ফলের মান নিয়ে কোনো ধরনের প্রশ্ন ওঠে না। সেক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ে একক ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হলে এর মান নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠার সুযোগ থাকবে না।

একক ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বকীয়তা, স্বতন্ত্র, স্বায়ত্তশাসন ক্ষতিগ্রস্ত হবে না উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ভর্তি পরীক্ষা অন্তর্ভুক্তিমূলক করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়বস্তু এর অন্তর্ভুক্ত থাকবে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের স্বার্থে একক ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, সব বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে ভর্তি পরীক্ষা হলে স্বল্প সময়ের মধ্যে পাঠদান শুরু করা যাবে। একক ভর্তি পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করা গেলে সবার কাছে এটি গ্রহণযোগ্যতা পাবে।
সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর এবং একক ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন প্রফেসর ড. দিল আফরোজা বেগম।

সভাশেষে জানতে চাইলে ড. মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, ২০০৯ সাল থেকে এই একক ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে আমরা পরিকল্পনা করে আসছি। এটাই একটা পর্যায়ে এসেছে। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে একটি মাত্র ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের আর কোনো ভর্তি পরীক্ষা দিতে হবে না। এর উপর ভিত্তি করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থী ভর্তি করাবে। এইচএসসি ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরপরই অনুষ্ঠিত হবে এই পরীক্ষা। পরীক্ষার পর দুই মাসের মধ্যেই ভর্তি সম্পন্ন হবে। এরপর শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুনির্দিষ্ট একটা সময় থাকবে। প্রতি বছর শিক্ষার্থীরা যেন বাংলাদেশের সকল পর্যায়ে ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিকেল, জেনারেল সকল শিক্ষার্থী যেন একটা নির্দিষ্ট সময়ে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে পারে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য ইউজিসি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হবে। আমরা অনুরোধ জানিয়েছি যাতে শিক্ষামন্ত্রী এই কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই কমিটি গঠনের পর তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল পর্যায়ের শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

এনটিএ গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা ধীরে ধীরে এনটিএ গঠন করবো। এটাকে আইনি কাঠামো দেয়া হবে। এক নাকি একাধিক পরীক্ষা হবে সে বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। শিক্ষার্থীদের বিভাগের উপর ভিত্তি করে প্রশ্ন করা হবে। বাংলা, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞান একই প্রশ্ন হবে। এরপর বিভাগভিত্তিক আলাদা প্রশ্ন করা হবে।

প্রশ্নের জবাবে ড. মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, একক ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে যখন আলোচনা করি তখন এর উপকারীতা নিয়ে কেউ দ্বিমত প্রকাশ করে না। আমরা আশা করি সকল বিশ্ববিদ্যালয় এই একক ভর্তি পরীক্ষায় আসবে।

ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. দিল আফরোজা বেগম বলেন, এখন এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠছে না। গুচ্ছ নিয়ে যে সমস্যাগুলো গত দুই বছরে হয়েছে আশা করছি এই বিষয়গুলো আর হবে না। এনটিসিএ নিয়ে উত্থাপিত ধারণাপত্রের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী সকল পরীক্ষা হবে কম্পিউটারাইজড। এই অবকাঠামো আমরা তৈরি করবো। প্রশ্ন হবে সৃজনশীল। ধরেন গণিতের বিষয়ে পরীক্ষার সময় আমরা খাতা দেবো। এই সময়ে শিক্ষার্থীরা অংক কষবে। একটা প্রশ্ন আসবে কম্পিউটারে, এরপর সেটার উত্তর সে কম্পিউটারে ক্লিক করে দেবে। এই উত্তর চলে যাবে সেন্ট্রাল মনিটরিং ইউনিটিতে। এরপর তারা শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করবে। আমরা একটা ন্যাশনাল স্কোর করে দেবো। ধরেন যারা বায়োলোজিতে পড়বে তাদের জন্য এক ধরনের স্কোর। ২০২৪ সালে একক ভর্তি পরীক্ষা ও এরপরের বছর এনটিএ’র মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন, অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ, অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আবু ইউসুফ মিয়া এবং ইউজিসি সচিব ড. ফেরদৌস জামান। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. সত্য প্রসাদ মজুমদার, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববদ্যিালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সভাপতি ও ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমান প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন :