নীতিমালা জারি: প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি লটারিতে, দ্বিতীয় থেকে নবম পরীক্ষার মাধ্যমে

adminadmin
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১১:৫৬ AM, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

এডুকেশনটুডে রিপোর্ট

আসন্ন (২০২৭) শিক্ষাবর্ষে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, এসব বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে। আর দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে।

গতকাল মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় ভর্তির এই নীতিমালা জারি করে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে আবেদনের ক্ষেত্রে একজন ভর্তি–ইচ্ছুক শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে পছন্দক্রম দিতে পারবে। তবে কোনো বিদ্যালয় ডাবল শিফট বা দুই পালায় পরিচালিত হলে, উভয় পালা পছন্দ করলে তা দুটি বিদ্যালয় পছন্দক্রম দেওয়া হয়েছে বলে গণ্য করা হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) কেন্দ্রীয়ভাবে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।

অন্যদিকে, দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণিতে শূন্য আসনে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাক্রম অনুসারে শিক্ষার্থী বাছাই করা হবে। এর মধ্যে দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৫০ নম্বরে এবং ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ১০০ নম্বরে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

গত মার্চে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ঘোষণা দিয়েছিলেন, ভর্তিতে লটারির পরিবর্তে পরীক্ষা চালু করা হবে। এরপর থেকেই শিক্ষাবিদ ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বিশেষ করে প্রাথমিক স্তরে লটারি তুলে দিয়ে পরীক্ষা চালু করলে কোমলমতি শিশুদের ওপর অপ্রয়োজনীয় মানসিক চাপ বাড়বে। পাশাপাশি কোচিং ও প্রাইভেট পড়ার নির্ভরতা বৃদ্ধি পাবে, যা শিক্ষাব্যবস্থায় বৈষম্য আরও বাড়িয়ে তুলবে। এরই মধ্যে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির নামে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় কোচিং সেন্টারগুলোর কার্যক্রম শুরু করার অভিযোগও উঠে।

পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত হয়, প্রথম শ্রেণিতে ভর্তিতে লটারির মাধ্যমেই শিক্ষার্থী বাছাই বহাল থাকবে এবং ওপরের শ্রেণিগুলোতে পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বিদ্যালয়গুলোতে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি আগের মতোই লটারির মাধ্যমে করা যায় কি না, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছিল, যদিও শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি।

একসময় বিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির নামে অল্প বয়সেই শিশুদের কঠিন প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হতো। নামী প্রতিষ্ঠানে সন্তানকে পড়াতে অভিভাবকদের চড়া মূল্যে কোচিং সেন্টারের দ্বারস্থ হতে হতো। ভর্তি প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগও নিয়মিত শোনা যেত। ফলে সাধারণ ও দরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো মানের বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াত। গণমাধ্যমে এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ও সমালোচনা চলে আসছে।

এমন প্রেক্ষাপটেই প্রথমে শুধু প্রথম শ্রেণিতে লটারি পদ্ধতি চালু করা হয়েছিল। ২০১১ শিক্ষাবর্ষ থেকে যেসব সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণি রয়েছে, সেখানে ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি বাধ্যতামূলক করা হয়। পরবর্তী বছর বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোতেও একই পদ্ধতি চালু করা হয়। তবে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি প্রক্রিয়া তখনো পরীক্ষার মাধ্যমেই পরিচালিত হতো। পরবর্তীতে করোনাকালের বিশেষ পরিস্থিতিতে ২০২১ শিক্ষাবর্ষে সব শ্রেণিতেই লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি বাধ্যতামূলক করা হয় এবং বিগত বছরগুলোতেও এই পদ্ধতি অব্যাহত ছিল। দীর্ঘদিনের সেই নিয়মে অবশেষে পরিবর্তন আনল শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

আপনার মতামত লিখুন :