সরকারি মাধ্যমিকে ভর্তি নীতিমালা জারি: প্রথম শ্রেণিতে লটারি, বাকি ক্লাসে পরীক্ষা

adminadmin
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১২:০২ PM, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

এডুকেশনটুডে রিপোর্ট

আসন্ন ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির নতুন নীতিমালা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ১৮ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এই নীতিমালা প্রকাশ করা হয়। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে এবং দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণির শূন্য আসনে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। স্কুলের কোনো শ্রেণির কোনো শাখাতেই ৫৫ জনের বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে না।

বয়সসীমা ও আবেদন প্রক্রিয়া
‘জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০’ অনুযায়ী প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর বয়স ৬+ বছর নিশ্চিত করতে হবে। তবে কাঙ্ক্ষিত শিক্ষাবর্ষের ১ জানুয়ারি তারিখে শিক্ষার্থীর সর্বনিম্ন বয়স ৫ বছর এবং সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত হবে। অন্যান্য শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রেও এই নিয়মে বয়স গণনা করতে হবে। বয়স নির্ধারণের জন্য অনলাইন জন্মসনদের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের বয়স নির্ধারণে সর্বোচ্চ ৫ বছরের অতিরিক্ত শিথিলতা দেওয়া হবে।

প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে পছন্দক্রম দিতে পারবে। ডাবল শিফট স্কুলে উভয় শিফট পছন্দ করলে তা দুটি বিদ্যালয় পছন্দক্রম হিসেবে গণ্য হবে। একই প্রতিষ্ঠানে একাধিক আবেদন করলে সব আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে। অনলাইনে প্রথম শ্রেণির আবেদনের ফি সর্বোচ্চ ১১০ টাকা এবং দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণির আবেদনের ফি সর্বোচ্চ ২৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

লিখিত পরীক্ষার মান বণ্টন ও সময়
দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণির শূন্য আসনে মেধাক্রম অনুসারে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাছাই করা হবে। পরীক্ষার মানবণ্টন ও সময় হলো:
* ২য় থেকে ৫ম শ্রেণি: পূর্ণমান ৫০ (বাংলা-১৫, ইংরেজি-১৫ ও গণিত-২০)। সময় ১ ঘণ্টা।

* ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণি: পূর্ণমান ১০০ (বাংলা-৩০, ইংরেজি-৩০ ও গণিত-৪০)। সময় ২ ঘণ্টা।

প্রশ্নপত্র প্রণয়ন থেকে শুরু করে ফলাফল প্রকাশ পর্যন্ত সব পর্যায়ে সর্বোচ্চ গোপনীয়তা এবং এনসিটিবির পাঠ্যবই অনুসরণ নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া সুবিধার্থে বিদ্যালয়গুলোকে ক্লাস্টারে বিভক্ত করে ভর্তির ব্যবস্থা করা যাবে।

সংরক্ষিত কোটা ও আসন বিন্যাস
নতুন নীতিমালায় বিভিন্ন কোটার জন্য আসন সংরক্ষিত রাখার সুনির্দিষ্ট বিধান রাখা হয়েছে:
প্রাথমিক কোটা: ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের মোট আসনের ১০ শতাংশ স্বতন্ত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

ক্যাচমেন্ট এরিয়া: ঢাকা মহানগরীর সরকারি বিদ্যালয়গুলোর ক্যাচমেন্ট এরিয়ার শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ শতাংশ এবং অবশিষ্ট ৬০ শতাংশ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

অন্যান্য কোটা: মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য ২ শতাংশ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ২ শতাংশ, সহোদর/সহোদরার জন্য ৩ শতাংশ এবং যমজ ভাই-বোনের জন্য ২ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে তা সাধারণ আসন থেকে পূরণ করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন :