এডুকেশন টুডে

  • Full Screen
  • Wide Screen
  • Narrow Screen
  • Increase font size
  • Default font size
  • Decrease font size

এডুকেশন টুডে’র বর্ষপূর্তি ও আমাদের ভাবনা

ইমেইল প্রিন্ট

গত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ‘এডুকেশন টুডে’তৃতীয় বর্ষে পদার্পণ করল। ১৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় শিক্ষা দিবস। ১৯৬২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন শরীফ শিক্ষা কমিশন বাতিলের দাবিতে ছাত্ররা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। মিছিলে পুলিশ গুলি চালায়। হতাহত হন অনেকে। সেই দিনকে স্মরণে রেখেই ১৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় শিক্ষা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। ’৬২’র ঐতিহাসিক শিক্ষা আন্দোলনকে স্মরণে রেখেই ২০১১ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর এডুকেশন টুডে’র আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।

‘এডুকেশন টুডে’র বর্ষপূর্তি এবং জাতীয় শিক্ষা দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সেমিনার হলে আলোচকবৃন্দ এবং উপস্থিত অতিথিদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হলো আলোচনা সভা। অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. কাবেরি গায়েন এবং অধ্যাপক ড. রতন সিদ্দিকী। দেশের বিরূপ রাজনৈতিক সংকটের কারণে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি বিশ্ব শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক মাহফুজা খানম এবং প্রবীণ রাজনীতিক ও ৬২’র শিক্ষা আন্দোলনের অন্যতম নেতা হায়দার আকবর খান রনো। তবে ঢাকা শহরকেন্দ্রিক বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পত্রিকাটির নিয়মিত পাঠক এবং ‘এডুকেশন টুডে’র ব্যবস্থাপনা সম্পাদক এম শরীফ উল আলমসহ ‘এডুকেশন টুডে’ পরিবারের উপস্থিতিতে চমৎকার একটি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি শুরু হয় তৃতীয় বর্ষে পদার্পণের কেক কেটে। বর্ষপূর্তি কেক কাটেন সম্মিলিতভাবে এম শরীফ উল আলম, অধ্যাপক ড. রতন সিদ্দিকী, অধ্যাপক ড. কাবেরি গায়েন এবং অধ্যাপক তালাত সুলতানা। সম্মানিত আলোচক এবং অতিথিবৃন্দকে কেক বিতরণ শেষে অনুষ্ঠানের মূলপর্ব শুরু হয়।

প্রথমেই বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. রতন সিদ্দিকী। তিনি বলেন, এক ঐতিহাসিক দিনকে লালন করে ‘এডুকেশন টুডে’র জন্ম। ১৯৬২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ঐতিহাসিক শিক্ষা দিবসকে স্মরণে রেখে ২০১১ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ‘এডুকেশন টুডে’র যাত্রা শুরু। মাঝখানে মাত্র দুটি বছর। এর মাঝে ‘এডুকেশন টুডে’ অনেক কাজই করেছে। বর্ষপূর্তি সংখ্যায় অধ্যাপক মাহফুজা খানম তাঁর আলোচনায় ‘এডুকেশন টুডে’র কার্যক্রম নিয়ে যে আলোচনা করেছেন, তাতেই বোঝা যায় পত্রিকাটি তাদের সাধ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। এজন্য ‘এডুকেশন টুডে’ পরিবারকে আমার অভিনন্দন। অধ্যাপক ড. রতন সিদ্দিকী আরও বলেন, ১৯৬২ সালে বাবলু-ওয়াজিউল্লাহর আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে শরীফ শিক্ষা কমিশন বাতিল হয়। আজ তার ৫১ বছর পূর্তি হলো। ইতিহাস হারিয়ে যায় না। তার প্রমাণ ‘এডুকেশন টুডে’। ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনের ফলাফল আমাদের ঐতিহাসিক শিক্ষা দিবস। ’৬২’র সেই ঐতিহাসিক ১৭ সেপ্টেম্বর বাবলু-ওয়াজিউল্লাহর আত্মত্যাগকে স্মরণ করে রাখতে ‘এডুকেশন টুডে’র জন্ম। আমরা আশান্বিত হই; আজ ভাবতে ভালো লাগে, বলতে সাধ হয়, দেশমাতৃকার জন্য নিবেদিত প্রাণ মানুষদের আমরা ভুলিনি, কখনও ভুলব না। বাঙালি জাতি ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর বীরের জাতি। আমরা আমাদের বীর ভাইদের কখনও ভুলব না।

ড. কাবেরি গায়েন তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা এবং স্বাধীনতাপূর্ব সময়ের দুই পাকিস্তানের শিক্ষার বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরেন। ’৭১ পূর্বকালে শিক্ষা, চাকরি এবং আর্থনীতিক ক্ষেত্রে আমাদের কীভাবে শোষণ করা হয়েছে তার একটি সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন। একই সঙ্গে ১৯৬২ সালের শরীফ শিক্ষা কমিশনের রিপোর্টের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শরীফ শিক্ষা কমিশনে সুপারিশ করা হয়েছিল, যে সন্তানের পিতার টাকা আছে তার জন্যেই উচ্চশিক্ষার দ্বার খোলা থাকবে। আজকে এই অর্ধশতাব্দী পরে আমরা কী দেখছি- দেশে ৭১টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে যার বাবার টাকা আছে তার জন্য শিক্ষা আছে। তাহলে বিষয়টি কি নতুন করে ভাববার নয়? যে রক্তাক্ত আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শরীফ শিক্ষা কমিশন বাতিল হলো, জাতীয় শিক্ষা দিবসের জন্ম হলো তারপর ঘুরে ফিরে সেই সুপারিশেই আমাদের ফিরে যাওয়া। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় অনেক পরিবর্তন এসেছে এ কথা সত্যি। তবে এখন পর্যন্ত তা গণমুখী শিক্ষাব্যবস্থার রূপ পায়নি। শিক্ষা যে সুযোগ নয়; সকলের মৌলিক অধিকার তার প্রতিষ্ঠা এখন খুব প্রয়োজন। আশা করি, ‘এডুকেশন টুডে’ সে অধিকার প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালনে আরও আন্তরিক হবে।

সবশেষে সভাপতির বক্তব্যে ‘এডুকেশন টুডে’র ব্যবস্থাপনা সম্পাদক এম শরীফ উল আলম বলেন, সকলের সহযোগিতায় আজকের এ আয়োজন, আজকের ‘এডুকেশন টুডে’। আমি সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি; কারণ আমরা আপনাদের কাছে পেয়েছি, সাথে পেয়েছি। আমাদের সাধ অনেক, সাধ্য সীমিত। সীমিত সাধ্যের মধ্যে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। ‘এডুকেশন টুডে’ কোনো বাণিজ্যিক ধারার প্রকাশনা নয়; এ স্বেচ্ছাশ্রম। ‘এডুকেশন টুডে’ নিয়ে আজ আমরা যারা কাজ করছি প্রত্যেকেই এর বাইরে অন্য কাজ করছি। ‘এডুকেশন টুডে’ আমাদের স্বপ্ন; আমাদের ভাবনার সন্তান। আমরা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আরও বাস্তবধর্মী এবং যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থার স্বপ্ন দেখি; সে স্বপ্নকে বাস্তবায়নে আমরাও সাথি হতে চাই। সে স্বপ্ন নিয়েই আমরা কাজ করছি। আমাদের কাজে আপনাদের আগেও আমরা পাশে পেয়েছি; ভবিষ্যতেই পাশে পাব সে বিশ্বাস আমাদের রয়েছে। আমাদের সকলের প্রচেষ্টায় একদিন নিশ্চয়ই আমরা আমাদের কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছব। সকলের প্রতি আবারও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

সভাপতির বক্তব্যের পূর্বে প্রশ্নোত্তর পর্বে উপস্থিত দর্শকদের প্রশ্নের জবাব দেন আলোচকবৃন্দ এবং ‘এডুকেশন টুডে’র ব্যবস্থাপনা সম্পাদক। প্রশ্নোত্তর পর্বে সকলের অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। অনুষ্ঠান শেষে সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে আপ্যায়নের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন অনুষ্ঠানের সভাপতি এম শরীফ উল আলম।

Share/Save/Bookmark