এডুকেশন টুডে

  • Full Screen
  • Wide Screen
  • Narrow Screen
  • Increase font size
  • Default font size
  • Decrease font size

চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া

ইমেইল প্রিন্ট

গ্যালারির চেয়ারগুলো সব ক্লান্তিতে গা এলিয়ে দিয়েছে, মাঠের লাইটগুলোও নিভে গেছে। শুধু প্রেস বক্সেই কিছু সাংবাদিক কাজ করছেন। মাঠের এক পাশ দিয়ে হোটেলে ফিরতে ফিরতেও ঘুরে তাকালেন ক্লার্ক। সেই পিচের দিকে, সেই মাঠের দিকে। যেখানে একটু আগেই প্রতিবেশি নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা নিশ্চিত করেছেন। পিচের প্রতি কৃতজ্ঞতাটা একটু বেশিই থাকতেই পারে ক্লার্কের। ওয়ানডে ক্রিকেট ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন। আর সে ম্যাচেই কি-না বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ। এর চেয়ে সুখকর বিদায় আর কি হতে পারে মাইকেল ক্লার্কের জীবনে।
ম্যাচের ৭৯তম ওভারের প্রথম বলে স্টিভেন স্মিথ বাউন্ডারি মেরে ম্যাচটা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করলেন। কিন্তু ম্যাচটা আসলে শেষ হয়ে গেছে আরও অনেক আগেই। প্রথম ইনিংস শেষেই। অনেকে আবার বলতে পারেন দিনের প্রথম ওভারেই। ফাইনালের সবচেয়ে বড় রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের নাম ছিল ম্যাককুলাম বনাম স্ট্রাক । ম্যাককালাম নেমেছিলেন ১৯১.৮১ স্ট্রাইক রেট নিয়ে। আর স্টার্কের প্রতি ১৬.৭ বলে একটি করে উইকেট। কিন্তু ম্যাককালামকে নিজের প্রথম ওভারেই বোল্ড করে স্টার্কের সেই লড়াই যেন শুরুর আগেই শেষ। সেখানেই রচিত হয়ে গেলো একতরফা ফাইনালের পাণ্ডুলিপি। প্রথম ইনিংস শেষের পর  ফাইনালটা কে জিতবে আলোচনা তখন ‘ফাইনালটা কখন শেষ হবে’ আলোচনায় রূপান্তরিত।
নিউজিল্যান্ডের স্বপ্নের পথচলাটা স্বপ্নের মতো শেষ হলো না। নিউজিল্যান্ড হোঁচট খেলো তীরে এসে। তাই অধরা রয়ে গেল বিশ্বকাপ ট্রফিটাও। কিছুটা আক্ষেপ তো আছেই নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালামের। ফাইনালের আগ পর্যন্ত পুরো টুর্নামেন্টে যেভাবে খেলেছে তার দল সেটা কিউই সমর্থকদের যেমন আনন্দ দিয়েছে, তেমনি আনন্দ দিয়েছে ক্রিকেটপ্রেমীদেরও। সেটা নিয়েই গর্ব করতে পারেন ম্যাককালামরা। এর আগে ছয় বার সেমিফাইনাল খেললেও ফাইনাল খেলা হয়েছে এই প্রথম।
২০১৫ বিশ্বকাপ ক্রিকেট ১৪ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে অসাধারণ পারফরম্যান্স প্রদর্শন করা সেরা দুটি দলই ফাইনালে পৌঁছে। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হওয়া ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনালিস্টও তারা। ফাইনালেই অস্ট্রেলিয়া নিউজিল্যান্ডকে বিধ্বস্ত করে পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি তাদের ঘরে নেয়।
অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত ফাইনালে কোনো কিছুরই কমতি ছিল না। মেলবোর্ন স্টেডিয়ামের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দর্শকের রেকর্ডও হয়েছিল এদিন। গ্যালারিতে বসে ৯৩ হাজারেরও বেশি দর্শক একসঙ্গে খেলা দেখেছেন। স্টেডিয়াম জুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ। ছিল আতশবাজির রোশনাই। ক্রিকেট বিশ্বকাপের মহারথীরাও ছিলেন উপস্থিত। সবাই আশায় ছিল একটি প্রতিদ্ব›দ্বীতাপূর্ণ ফাইনাল ম্যাচ দেখার আশায়। কিন্তু সে আশায় গুড়ে বালি দিল পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে ভিনগ্রহের ক্রিকেট খেলা দল নিউজিল্যান্ড।
টসে জিতে নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক ব্যান্ডন ম্যাককুলাম প্রথমেই ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন। আর ব্যক্তিগত রানের খাতা খোলার আগেই প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন ২০১৫ ক্রিকেট বিশ্বকাপের হারকিউলিস ম্যাককুলাম। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে বোলারদের ঘুম হারাম করে নেওয়া ম্যাককুলাম এদিন শূন্য রানে আউট হয়ে মনে করিয়ে দেন ব্যান্ডন ম্যাককুলাম কোনো রোবট নন। তিনিও একজন রক্তমাংসে গড়া মানুষ। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ডাবল সেঞ্চুরি করা মার্টিন গাপটিলও ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান ধরা হয় কেন উইলিয়ামসনকে; ব্যর্থ তিনিও। দলীয় রান ৪০ পূর্ণ হওয়ার আগেই নেই ৩ উইকেট। সেখান থেকে বড় ম্যাচের খেলোয়াড় রস টেইলর ও গ্রান্ট এলিয়ট শুধু ম্যাচটা টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। চেয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডকে একটা সম্মানজনক স্কোরে পৌঁছাতে। কিন্তু যে দলের ৪ জন ব্যাটসম্যানই রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফিরে যান সে দল কীভাবে জয়ের আশা করতে পারে। নিউজিল্যান্ড অলআউট ১৮৩ রানে। বিশ্বকাপ ফাইনালে দুই দলের যে একটা স্নায়ুর চাপ থাকে সেই চাপটাই নিতে পারল না নিউজিল্যান্ড। দুর্দান্ত অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইন আপকে যে ১৮৩ রানে আটকে রাখা যাবে না তা ম্যাচের প্রথম ইনিংস শেষেই বোঝা যাচ্ছিল। আদতে হয়েছেও তাই। ৩ উইকেট হারিয়েই জয়ের বন্দরে ভিড়ে অস্ট্রেলিয়া। নিজের ফেয়ারওয়েল ম্যাচে দুর্দান্ত ৭৪ রানের এক ইনিংস খেলে ওয়ানডে ক্রিকেটকে বিদায় জানান ক্লার্ক। বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন জেমস ফকনার। ৯ ওভার বল করে ৩৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট লাভ করেন তিনি। আর টুর্নামেন্ট সেরা হয়েছেন মিচেল স্টার্ক। অস্ট্রেলিয় এই পেসার ১০.১৮ গড়ে ২২ উইকেট দখল করে বিশ্বকাপে যৌথভাবে ট্রেন্ট বোল্টের সঙ্গে উইকেট শিকারির তালিকায় শীর্ষস্থানে রয়েছেন। তবে মিচেল স্টার্ক একটি ম্যাচ কম খেলেছেন। ওভারপ্রতি রান দিয়েছেন ৩.৫০। তবে কাল বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ শুরুর প্রথম ওভারেই ম্যাককালামকে আউট করে একপেশে ফাইনাল মঞ্চ রচনা করে দেন তিনি।
বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন নিউজিল্যান্ডের ওপেনার মার্টিন গাপটিল। তিনি ৯ ম্যাচে রান করেন ৫৪৮। সর্বোচ্চ ২৩৭*। কুমার সাঙ্গাকারা ৭ ম্যাচে ৫৪১, সর্বোচ্চ ১২৪; দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক এ বি ডি ভিলিয়ার্স ৭ ম্যাচে  করেন ৪৮২ রান, সর্বোচ্চ ১৬২*; জিম্বাবুয়ের বিদায়ী অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেলর ৬ ম্যাচে করেন ৪৩৩ রান, সর্বোচ্চ ১৩৮; ভারতের ওপেনার শিখর ধাওয়ান ৮ ম্যাচে ৪১২ রান করেন, সর্বোচ্চ ১৩৭।
উইকেট সংগ্রহের তালিকার শীর্ষে রয়েছেন মিচেল স্টার্ক ২২ উইকেট নিয়ে। সর্বোচ্চ ৬/২৮; ট্রেন্ট বোল্ট ২২ উইকেট, সর্বোচ্চ ৫/২৭; উমেশ যাদব ১৮ উইকেট, সর্বোচ্চ ৪/৩১; মোহাম্মদ শামি ১৭ উইকেট, সর্বোচ্চ ৪/৩৫, মরনে মরকেল ১৭, সর্বোচ্চ ৩/৩৪। ফাইনালের পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে শ্রদ্ধার্ঘস্বরূপ একেকটি নাম বলে যাচ্ছিলেন মার্ক নিকোলাস। আর দর্শক সেসব নাম শুনে হারিয়ে যাচ্ছেন স্মৃতিতে। যাদের পদচারণা পড়বে না আর বিশ্বকাপে। মাইকেল ক্লার্কের দৃষ্টিনন্দন সব ড্রাইভ, ড্যানিয়েল ভেট্টোরির চশমা চোখে স্মিত হাসি, উইকেটের পেছনে কুমার সাঙ্গাকারার সার্বক্ষণিক উপস্থিতি, মহেলা জয়াবর্ধনের মুগ্ধ চোখে বোলানো সব শট, মিসবাউল হকের বটবৃক্ষের মতো ছায়া, বুম বুম শহীদ আফ্রিদি, ব্রেন্ডন টেলরের একাই লড়ার মানসিকতা সবই মিস করবে বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপ মাত্র শেষ হয়েছে। আরো কিছুদিনের মধ্যেই অবসরের ঘোষণা আসতে পারে অনেক ক্রিকেটারের। এই তালিকায় রয়েছেন দিলশান, মালিঙ্গা, ইউনিস খান, গেইল, এম এস ধোনি, ব্র্যাড হ্যাডিন, মাশরাফি মর্তুজা, জেমস এন্ডারসন প্রমুখ।
সেঞ্চুরির রেকর্ড
রেকর্ড নাকি গড়া-ই হয় ভাঙার জন্য। তবে কিছু কিছু রেকর্ড ভাঙার দৃশ্য একটু ব্যতিক্রমও হয়। যেমন ১৯৭৫ বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি হয়েছিল মাত্র ৬টি। ৪০ বছর পর ২০১৫ বিশ্বকাপের গ্র“প পর্বেই হয়েছে ৩৫টি সেঞ্চুরি! এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে হয় আরো দুটি। সেমিফাইনালে হয় একটি। ফাইনালে কোনো সেঞ্চুরি না হলেও চলতি বিশ্বকাপে রেকর্ড ৩৮টি সেঞ্চুরি হয়েছে। যার মধ্যে দুটি ডাবল সেঞ্চুরিও রয়েছে।
প্রথম বিশ্বকাপে ৬টি সেঞ্চুরির পর, ১৯৭৯ সালে আয়োজিত দ্বিতীয় বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি হয়েছিল মাত্র ২টি। ১৯৮৩ তে আয়োজিত তৃতীয় বিশ্বকাপে সেঞ্চুরির সংখ্যা ছিল ৮টি। ১৯৮৭ সালের বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি হয় ১১টি। ১৯৯২ বিশ্বকাপে ৮টি সেঞ্চুরি দেখে ক্রিকেট বিশ্ব। ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি হয় ২১টি। ২০০৭ বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি হয়েছিল ২০টি।  বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কায় আয়োজিত ২০১১ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ২৪টি সেঞ্চুরি হয়েছিল। এবার পেছনের সব রেকর্ড ভেঙে ৩৮টি সেঞ্চুরি হয়েছে। যা রীতিমতো বিস্ময়কর। এই সেঞ্চুরি ও রানের ফলগুধারা এটাই প্রমাণ করে যে নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মাঠে বোলারদের জন্য তেমন কিছু নেই। ক্রিকেটে যদি ব্যাটে বলে লড়াই-ই না হল তাহেল ক্রিকেটের মজাটা কোথায়? যাই হোক, ৩৮টি সেঞ্চুরির চারটি করেছেন শ্রীলঙ্কার কুমার সাঙ্গাকারা (১২৪, ১১৭*, ১০৫* ও ১০৪)। তিনি বাংলাদেশ, স্কটল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টানা চার ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েন। বাংলাদেশের মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (১২৮* ও ১০৩) ও জিম্বাবুয়ের ব্রেন্ডন টেলর (১৩৮ ও ১২১) টানা দুটি করে সেঞ্চুরি করে ১৯৯৬ বিশ্বকাপে মার্ক ওয়াহর করা রেকর্ড ছুঁয়েছেন। দুটি করে সেঞ্চুরি রয়েছে শ্রীলঙ্কার তিলকারত্নে দিলশান (১৬১* ও ১০৪), ভারতের শেখর ধাওয়ান (১৩৭ ও ১০০) ও মার্টিন গাপটিল (২৩৭* ও ১০৫)।
দলগতভাবে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি হয়েছে শ্রীলঙ্কা দলে। তাদের দলে আটটি সেঞ্চুরি হয়েছে (চারটি সাঙ্গাকারার, দুটি দিলশানের, থিরিমান্নে ও জয়াবর্ধনের ১টি করে)। দক্ষিণ আফ্রিকা দলে হয়েছে পাঁচটি। ভারতের খেলোয়াড়রাও করেছেন পাঁচটি সেঞ্চুরি। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানরা চারটি সেঞ্চুরি উপহার দিয়েছেন ক্রিকেট বিশ্বকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের তিনজন ব্যাটসম্যান সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন। বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড, জিম্বাবুয়, নিউজিল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড দল দুটি করে সেঞ্চুরির করার কৃতিত্ব দেখিয়েছে। আর একটি করে সেঞ্চুরি করেছেন পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও স্কটল্যান্ড দলের ব্যাটসম্যানরা।
বিশ্বকাপে সেরা দশ তালিকায় বাংলাদেশের দুই খেলোয়ার
সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে ৬ ম্যাচে ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। এর মধ্যেই তিনি বিশ্বকাপের সেরা দশ ব্যাটসম্যানের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। নামের পাশে যোগ করেছেন ৩৬৫ রান। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তার করা অপরাজিত ১২৮ রানের ইনিংসটিই সেরা। বিশ্বকাপের ১১তম আসরে সর্বোচ্চ রান সংগহকদের তালিকায় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের অবস্থান নয় নম্বরে।
তালিকার শীর্ষে রয়েছেন মার্টিন গাপটিল। তিনি করেছেন ৯ ম্যাচে ৫৪৭ রান। আর ৫ ম্যাচে ৫৪১ রান নিয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন শ্রীলঙ্কার গ্রেট ব্যাটসম্যান কুমার সাঙ্গাকারা। তৃতীয় স্থানে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার অধিানয়ক এবি ডি ভিলিয়ার্সের সংগ্রহ ৮ ম্যাচে ৪৮২ রান। এদিকে, রান সংগ্রাহকের তালিকায় সেরা দশে জায়গা করে নিতে না পারলেও উইকেটের পেছনে মুশফিক ছিলেন অসাধারণ। খেলেছেন ৬ ম্যাচ। ৮টি ডিসমিসাল করেছেন তিনি। এতে রয়েছে ১টি স্টাম্পিং ও ৭টি ক্যাচ। বিশ্বকাপের ১১তম আসরে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের তালিকায় মুশফিকের অবস্থানও নয় নম্বরে।
তালিকায় সবার ওপরে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার উইকেটরক্ষক ব্র্যাড হাডিন। ৮ ম্যাচে ১৬টি ডিসমিসাল করেন তিনি। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ভারতের অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির নামের পাশে যোগ হয়েছে ১৫টি ডিসমিসাল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের উইকেটরক্ষক দিনেশ রামদিন রয়েছেন তৃতীয় অবস্থানে। ৭ ম্যাচে ১৩টি ডিসমিসাল করেছেন এই ক্যারিবিয়ান। ৯ ম্যাচে ১৩টি ডিসমিসাল করে নিউজিল্যান্ডের উইকেটরক্ষক লুক রনকির অবস্থান চতুর্থ। সমান ১০টি ডিসমিসাল নিয়ে পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন স্কটল্যান্ডের উইকেটকিপার ম্যাথু ক্রস এবং দক্ষিণ আফ্রিকার কুইন্টন ডি কক।
বিশ্বকাপে বাংলাদেশ
২০১৫ ক্রিকেট বিশ্বকাপ বাংলাদেশের জন্য স্মরণীয়ই হয়ে থাকবে। এই বিশ্বকাপেই বাংলাদেশ তাদের সেরা নৈপুণ্য প্রদর্শন করে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উত্তীর্ণ হওয়ার মাধ্যমে। গ্রæপ পর্বে স্কটল্যান্ড, আফগানিস্তান ও ইংল্যান্ডকে হারিয়ে এ গ্রুপ থেকে চতুর্থ দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে নাম লেখায় বাংলাদেশ। এই বিশ্বকাপেই দলীয় সর্বোচ্চ রানের স্কোর করে বাংলাদেশ। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩১৭ রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ রান করেছিল ৩২২। এর আগে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান ছিল ২৮৩।
যদিও কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের সঙ্গে বিতর্কিত এক ম্যাচে পরাজিত হয়ে বিশ্বকাপ মিশন কোয়ার্টারেই থমকে যায় বাংলাদেশের। তবে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স দেশ তথা ক্রিকেট বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেয়। ভয়হীন ক্রিকেট বলতে যা বোঝায় বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের কাছ থেকে তাই পেয়েছে ক্রিকেট বিশ্ব। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ইংল্যান্ডের ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি করার কৃতিত্ব দেখান। ৬ ম্যাচে করেন ৩৬৫ রান। এর আগে এই রেকর্ড ছিল আশরাফুলের (২১৭)। ধারাবাহিকতার মূর্ত প্রতীক ছিলেন দেশের সবচেয়ে বড় ব্যাটসম্যান মুশফিক রহিম। নিজেকে আরো উচ্চতায় নিয়ে গেছেন সাকিব আল হাসান। দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে যা প্রয়োজন তাই করে দেখিয়েছেন মাশরাফি মর্তুজা। বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যতের বড় তারকা সৌম্য সরকার, তাসকিন আহমেদ ও সাব্বির রহমানকে পেয়েছে বিশ্বকাপে। এই তিন ত্রয়ী দেখিয়ে দিয়েছেন আগামীতে বাংলাদেশকে আলোর পথ দেখাতে প্রস্তুত তারা। জ্বলে উঠেছিলেন পুরনোরাও। রুবেল হোসেন ইংল্যান্ডের অসাধারণ দুটি স্পেল করে ক্রিকেট বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় অস্ট্রেলিয়ার মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচার  হয়েছে বাংলাদেশের জয়। ইংল্যান্ডের মিডিয়াগুলো তাদের দলের সমালোচনার পাশাপাশি প্রশংসায় ভাসিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশকে। ক্রিকেট বিশ্ব এক নতুন বদলে যাওয়া বাংলাদেশকে দেখেছে।

Share/Save/Bookmark